সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তুমুল জনপ্রিয় ও ‘কুঁড়েঘর’ গানের দলের তরুণ কণ্ঠশিল্পী তাশরিফ খান ফেসিয়াল প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। এর ফলে তার মুখের এক পাশে বাঁকা হয়ে গেছে। বড় রকমের বাঁকা না হলেও এখন যে অবস্থায় আছেন তা খুব নরমাল কোনো অবস্থা না।
এমনটা তাশরিফ নিজেই জানিয়েছেন। নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে রোববার (৫ মার্চ) এক স্ট্যাটাসে বিষয়টি সে বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন তিনি। তাশরিফ তার স্ট্যাটাসে লেখেন, হঠাৎ করেই আমি ‘ফেসিয়াল প্যারালাইসিস’ রোগে আক্রান্ত হয়েছি। এই রোগে অনেক সময় মুখের এক পাশ বাঁকা হয়ে যায়। আমার মুখ এখনো বড় রকমের বাঁকা হয়নি তবে এখন যে অবস্থায় আছি এটা খুব নরমাল কোনো অবস্থা না।
তাশরিফ খান ফেসিয়াল প্যারালাইসিসে আক্রান্ত
কেন হয়েছে তার কারণ এখনো জানি না। ডাক্তার দেখানোর পর হয়তো এই ব্যাপারে পুরোপুরি জানতে পারবো। আগামীকাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসার্টটা হতে পারে এই মাসের শেষ কনসার্ট। কবে নাগাদ আবার স্বাভাবিক হয়ে কাজে ফিরতে পারবো এখনো জানি না, তবে সবাই দোয়া করলে হয়ত দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।উল্লেখ্য, গত বছর সিলেট-সুনামগঞ্জ অঞ্চলে বন্যার সময়ে ত্রাণ সহায়তায় কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করে ব্যাপক আলোচিত হয়েছেন এই তরুণ।

তবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক লাইভে ভক্তদের দুশ্চিন্তা না করে, উদ্বিগ্ন না হয়ে দোয়া করার অনুরোধ করেন এই সংগীতশিল্পী।
এদিকে রোগটি নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমকে তাসরিফ বলেন, ‘ডাক্তার এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না। অন্তত একমাস চিকিৎসার পর বলা যাবে।তিনি বলেন, ‘আপাতত মাস দুয়েক আমাকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে। ফলে ঈদের আগে কোনো গানের কাজই করতে পারবো না।’

রোগটির বর্ণনা দিয়ে তাসরিফ বলেন, ‘মুখের একপাশ কিছুটা বেঁকে গেছে। তিন দিন আগেই বিষয়টা খেয়াল করি। যদিও সামনে থেকে সহজে এটা বোঝা যায় না, কিন্তু কথা বলার সময় বোঝা যায়।তিনি বলেন, ‘ডাক্তার জানিয়েছেন- এই রোগে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়। অল্প কিছু মানুষকে রোগটা বয়ে বেড়াতে হয়। এখন দেখা যাক কী হয়। আপাতত ফিজিওথেরাপি নিতে হবে আর কিছু ওষুধ চলবে।’

তাসরিফের ব্যান্ড ‘কুঁড়েঘর’ থেকে প্রকাশিত ‘তাই তো আইলাম সাগরে’, ‘রাজার রাজ্যে সবাই গোলাম’, ‘আমি মানে তুমি’সহ এমন অনেক গান ভক্ত-শ্রোতার হৃদয় ছুঁয়েছে।গত বছর সিলেটের বন্যাদুর্গত বিপর্যস্ত মানুষদের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে ফেসবুকে লাইভ করেন তাসরিফ। সেই লাইভ মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ওই সময় কোটি টাকার বেশি ফান্ড সংগ্রহ করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘বাইশের বন্যা’ নামের একটি বইও লিখেছেন। এবার বইমেলায় প্রকাশ পেয়েছে সেটি।
আরও দেখুনঃ
