মারা গেছেন একুশে পদক পাওয়া নৃত্যশিল্পী জিনাত বরকতুল্লাহ।বুধবার বিকেলে ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে তিনি মারা যান। গণমাধ্যমকে তার মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন তার মেয়ে অভিনেত্রী বিজরী বরকতুল্লা। জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছিলেন বিশিষ্ট এই শিল্পী। তার মৃত্যু সংবাদে দেশের সাংস্কৃতিক তথা নৃত্যাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
মারা গেছেন একুশে পদক পাওয়া নৃত্যশিল্পী জিনাত বরকতুল্লাহ
এই গুণী নৃত্যশিল্পী স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ধারায় নৃত্য চর্চার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নৃত্যে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০২২ সালে একুশে পদক প্রদান করে।একুশে পদক ছাড়াও তিনি শের-ই-বাংলা স্মৃতি পুরস্কার , নাট্যসভা পুরস্কার, ক্যাডেট কোর পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার, তারকালোক পুরস্কার, সহস্রাব্দ পুরস্কার, অমৃতবাজার পুরস্কার, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, শিল্পকলা একাডেমি পদক পেয়েছেন।

শুধু নৃত্য চর্চায় নয়, ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘মারিয়া আমার মারিয়া’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনেত্রী হিসেবেও যাত্রা শুরু করেন। প্রায় ৮০টি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে নাট্যকার মোহাম্মদ বরকতুল্লাহর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০২০ সালের ৩ আগস্ট মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

জিনাত বরকতুল্লাহ চার বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী গাজী আলিমুদ্দিন মান্নানের কাছে নৃত্য শেখা শুরু করেন। এছাড়াও বুলবুল ললিতকলা একাডেমি নাচের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি।

কর্মজীবনের শুরুতেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশন শিল্পকলা একাডেমিতে যোগদান করেন। ১৯৭০-এর দশক থেকেই মূলত তার নৃত্যযাত্রা শুরু হয়। প্রথমজীবনে তিনি উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় নৃত্যের তিনটি ধারা ভরতনাট্যম, কত্থক এবং মণিপুরী নৃত্যে শিক্ষা লাভ করলেও পরবর্তীতে লোকনৃত্যেই তাকে বেশি দেখা যেত। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রযোজনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন।
আরও দেখুনঃ
