পুরুষতান্ত্রিক যৌনতাময় বলিউড, বলছে গবেষণা

পুরুষতান্ত্রিক যৌনতাময় বলিউড, বলছে গবেষণা। ‘বলিউড অর্থাৎ ভারতের জনপ্রিয় হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্প একে প্রায়ই ‘পুরুষের জগৎ’ হিসেবেই বর্ণনা করা হয়। এ নিয়ে বহুকাল ধরেই কথা হচ্ছে। তবে সম্প্রতি নতুন এক জরিপে বের হয়ে এসেছে যে মুম্বাইয়ের এই সিনেমার জগতে – তা সে রূপালী পর্দায়ই হোক আর পর্দার পেছনেই হোক – জেন্ডার সমতা কত নগণ্য। অভিনেতা এবং অভিনেত্রীদের বেতন বৈষম্য থেকে শুরু বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রেও এই বৈষম্য দেখা যায় ।

সাধারণত দর্শক জীবনে বলিউড সিনেমার একটা বিরাট প্রভাব রয়েছে । ২১০ কোটি মার্কিন ডলারের চলচ্চিত্রশিল্প বলিউডে প্রতিবছর শত শত সিনেমা মুক্তি পায়। বিশ্বব্যাপী এসব সিনেমার প্রচুর দর্শক রয়েছেন। দর্শক-ভক্তদের চিন্তাভাবনা-কল্পনার ওপর সিনেমা ও চলচ্চিত্র তারকারা যে প্রভাব ফেলছেন তা সকলেরই জানা। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে বলিউডের অনেক ছবিই সাধারণত পুরুষকেন্দ্রিক হয়ে আসছে এবং প্রধান চরিত্রে সাধারণত বেশির ভাগ সিনেমাতেই পুরুষকেই দেখা যায়। বলা হচ্ছে এগুলো সেকেলে মূল্যবোধের এবং এগুলো সমাজে নারীবিদ্বেষী মানসিকতা ও জেণ্ডার পক্ষপাত বা বৈষম্যের প্রসার ঘটাচ্ছে।

পুরুষতান্ত্রিক যৌনতাময় বলিউড, বলছে গবেষণা

ভারতের মুম্বাইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের (টিস) গবেষকেরা হিন্দি সিনেমায় পিতৃতন্ত্রের দাপট কতটা প্রকট, তা পরিমাপের চেষ্টা করেছেন। বলিউড নিয়ে এই প্রথম এ ধরনের গবেষণা হলো। গবেষকেরা তাদের গবেষণার জন্য ২০১৯ সালের বক্স-অফিস হিট হওয়া সিনেমাগুলোর মধ্য থেকে ২৫টি বাছাই করেন।

পুরুষতান্ত্রিক যৌনতাময় বলিউড, বলছে গবেষণা

এ ছাড়া ২০১২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যকার ১০টি নারীকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র গবেষকেরা বেছে নিয়েছিলেন। ২০১২ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে একটি বাসে এক ছাত্রী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। এ নিয়ে তখন ব্যাপক বিক্ষোভ-প্রতিবাদ হয়। এর জেরে ভারত সরকার নারীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন-সংক্রান্ত কঠোর আইন প্রবর্তন করে। এই ঘটনার পর বলিউডের সিনেমার গল্পে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, তা দেখতে চেয়েছিলেন গবেষকেরা।

গবেষণার জন্য বাছাই করা বক্স-অফিস হিট সিনেমাগুলোর মধ্যে ছিল ‘ওয়ার’, ‘কবির সিং’, ‘মিশন মঙ্গল’, ‘দাবাং ৩ ’, ‘হাউসফুল ৪ ’, ‘আর্টিকেল ১৫ ’। আর নারীকেন্দ্রিক সিনেমাগুলোর মধ্যে ছিল ‘রাজি’, ‘কুইন’, ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বোরখা’, ‘মার্গারিটা উইথ আ স্ট্র’ ইত্যাদি।

গবেষকেরা বাছাই করা সিনেমাগুলোর প্রায় দুই হাজার চরিত্র বিশ্লেষণ করেন। সিনেমায় চরিত্রগুলোর পেশার ধরন বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা। এ ছাড়া তারা যৌনতা-সংক্রান্ত গৎবাঁধা ধারণা, ঘনিষ্ঠতা, হয়রানির মতো বিভিন্ন বিষয়ের আলোকে সিনেমাগুলো বিশ্লেষণ করেছেন।

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

গবেষকেরা সিনেমাগুলোতে অংশ নেওয়া এলজিবিটিকিউ প্লাস ও প্রতিবন্ধী চরিত্রের সংখ্যা গুনে দেখেছেন। সিনেমায় তাদের চরিত্র কীভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে, তা তারা দেখেছেন। সিনেমাগুলোতে কতজন নারী পর্দার পেছনে কাজ করেছেন, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখেন গবেষকেরা।

গবেষকেরা এই উপসংহারে পৌঁছান, নারীকেন্দ্রিক সিনেমাগুলো কিছুটা আশাবাদ তৈরি করে। কিন্তু বক্স-অফিস হিট হওয়া সিনেমাগুলো যৌনতাবাদী ও পশ্চাদ্গামী। এসব সিনেমায় নারী, এলজিবিটিকিউ প্লাস, প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধিত্ব শোচনীয়। যেমন গবেষণায় বিশ্লেষণ করা সিনেমাগুলোর চরিত্রের ৭২ শতাংশই পুরুষ। ২৬ শতাংশ নারী। ২ শতাংশ অন্যরা।

 

পুরুষতান্ত্রিক যৌনতাময় বলিউড, বলছে গবেষণা

 

গবেষণা প্রকল্পটির প্রধান অধ্যাপক লক্ষ্মী লিঙ্গম বলেন, বলিউডের সব বড় বড় পুরুষ চরিত্রের ওপর ভর করে বড় অঙ্কের আয় আসছে। আর চলচ্চিত্র নির্মাতারা বলছেন, খুব শক্তিশালী নারী চরিত্র দর্শকদের সঙ্গে যায় না।লক্ষ্মী আরও বলেন, বলিউডে ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা খুব কমই হয়েছে। কারণ, পুরুষতান্ত্রিকতা সিনেমার গল্পের ধারণা ও বর্ণনাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। নির্মাতাদের মধ্যে এমন বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে এই ধরনের গল্পই দর্শক টানতে পারে, অর্থ আনতে পারে। তাই তারা এই সূত্রের মধ্যেই থাকেন।

লক্ষ্মী বলেন, গবেষণায় এলজিবিটিকিউ প্লাস চরিত্রগুলোর চিত্রায়ণে বড় ধরনের সমস্যা দেখা গেছে। তারা কখনোই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকায় ছিল না। চরিত্রকে প্রায়ই যৌনতাপূর্ণ রসিকতায় যুক্ত থাকতেও দেখা গেছে। তিনি আরও বলেন ,বলিউডের সিনেমা আজও ‘পুরুষতান্ত্রিক’ আর ‘ সেকেলে’ রয়ে গেছে।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment