শাকিব খানই আমাকে বিয়ের প্রস্তাব করেছিলেন: শবনম বুবলী। অভিনেতা ও জনপ্রিয় টেলিভিশন সঞ্চালক শাহরিয়ার নাজিম জয়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঢালিউড নায়িকা শবনম বুবলি বলেছেন, কোনো সুপারস্টারকে বিবাহ করা যদি আমার পূর্বপরিকল্পনা থাকতো, তাহলে ছোটবেলা থেকেই আমার বিচরণ থাকতো এই সিনেমা জগতে। যা আমার কখনোই উদ্দেশ্য ছিলো না। আমি নিউজ থেকে ফিল্মে এসেছি, এইটা সকলেই জানেন। এমনকি আমার পরিবার ফিল্মে আসার বিষয়ে রাজি ছিলো না। প্রত্যেকটি স্বচ্ছল ঘরের, শিক্ষিত এবং দেখতে সুন্দরী মেয়ের জন্য হাজার হাজার ভালো ঘর থেকে বিয়ের প্রপোজাল এসে থাকে, আমার ক্ষেত্রেও এটি এসেছিলো। বাড়ি গাড়ির লোভে বিয়ে করলে সেখান থেকেও কাউকে বিয়ে করতে পারতাম। সুতরাং শাকিব খানকে বাড়ি-গাড়ির লোভে বিয়ে করেছিÑ একথা মোটেও ঠিক নয়।
‘নাজিম জয়’ ফেসবুক পেজে আপলোডকৃত সাক্ষাৎকারে বুবলি বলেন, ২০১৬ সালে যখন শাকিব খানের সঙ্গে আমার মুভি স্টার্ট হয়, তখন আমি কোনোভাবেই জানতাম না তার স্ত্রী-বাচ্চা আছে। জানারও কথা নয় এটি, কারণ তার বউ-বাচ্চার বিষয়টি মিডিয়াতে এসেছিলো ২০১৭ সালের পরে। তখন আমি জেনেছিলাম শাকিব খান সিঙ্গেল এবং তার জায়গা থেকে তিনি বিয়ে করে সেটেল হতে যাচ্ছেন।
এরপর আমাদের জুটিতে বেশ কয়েকটি সিনেমা রিলিজ হতে থাকে, এসময়ে আমি বুঝতে পারি শাকিব খান হয়তো আমাকে পছন্দ করতে শুরু করেছেন এবং প্রপোজটা শাকিব খানই আমাকে করেছিলেন। কারণ তিনি আমার থেকে অনেক অনেক একজন সিনিয়র শিল্পী, যে কারণে তাকে আগ বাড়িয়ে প্রস্তাব করার সাহস কোনোভাবেই আমার ছিলো না।
শাকিব খানই আমাকে বিয়ের প্রস্তাব করেছিলেন: শবনম বুবলী
এরপর তার সঙ্গে আমার খুব ভালোভাবেই সবকিছু চলছিলো এবং আমরা বিবাহ করার পর সকলেই তা জানতো। এভাবে একটা সময়ে আমি প্রেগন্যান্ট থাকা অবস্থাতেই এফডিসিতেও সকলের সামনেই শুটিং করেছি। তার মানে শাকিবের সঙ্গে আমার খুবই ভালো সম্পর্ক ছিলো তখনও। এসকল বিষয় নিয়ে অনেক নিউজও হয়েছে তখন। এরপর শাকিবের কথাতেই আমি আমেরিকাতে চলে যাই। কারণ আমরা দুজনই চাচ্ছিলাম, আমাদের সন্তানের বিষয়টা ওই মুহূর্তে সকলের সামনে হাইড থাকুক। যে কারণে তখন আমেরিকাতে চলে যাওয়া।
আমাদের বিয়েটাও হয়েছিলো পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে। ওই সকল সময়েও শাকিব আমাকে যা বলেছে আমি তাই বিশ্বাস করেছি। কারণ তাকে আমি মন থেকে ভালোবেসেছিলাম। তখন সেই ছিলো আমার দুনিয়া। তখন সে আমাকে যেটাই বলতো তাই আমার বিশ্বাস করাটা হয়তো ভুল ছিলো। আমি অসুস্থ প্রেগন্যান্ট একটা মেয়ে আমেরিকাতে থাকার পরও শাকিব আমার খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করে দেন। এ সময়ে আমি কোনোভাবেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। টেক্সট, কল কিছুতেই তাকে আমি রিচ করতে পারছিলাম না। সব মিলিয়ে তখন আমি আমার জীবনের সবচেয়ে অসহায়তম সময় পার করেছি। তবে ফিল্ম সেক্টরের কিছু মানুষ তখন আমার খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

ধরে নিলাম করোনার কারণে শাকিব আমেরিকা আসতে পারছিলেন না, তবে তার থেকে একটা ফোনকলের মাধ্যমে মানষিক সাপোর্ট আমি আশা করেছিলাম, যা পাইনি। সে সময়ে আমি নতুন একটা অপরিচিত দেশে নিজে নিজে বাজার করা, রান্না করা, হসপিটালে যাওয়া আসার মতো দুঃসময় পার করতেছিলাম। এসবের পরও শাকিব খানের থেকে একটু মানসিক সাপোর্টও মেলেনি।

যখন আমার পেইন ওঠে, তখন আমার খুব মন চাচ্ছিলো আমার হাজবেন্ডের সঙ্গে একটু কথা বলতে এবং তখন তাকে আমি কলও করেছিলাম। কিন্তু ওই মুহূর্তেও সে আমার কল রিসিভ করেননি। এমনকি ওই সময়ে সকল খরচ আমার নিজেকেই জোগাড় করতে হয়েছে, কারণ শাকিব নাম মাত্র সামান্য কিছু টাকা মাঝে মধ্যে আমাকে পাঠাতেন।
এমনকি ওই সামান্য টাকা পাঠানোর পর তিনি জানিয়ে দিতেন, এর বেশি টাকা আর সে দিতে পারবে না। এমন অবস্থাতে আমার ডেলিভারি পেইন ওঠার পর আমি সেখানকার ইমার্জেন্সি নাম্বারে কল করে তাদের সাহায্যে কোনোমতো হাসপাতালে পৌঁছে আমি রিসিপশনে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যাই। সে সময়েও আমি আমার বাচ্চার বাবার সঙ্গে ফোনেও যোগাযোগ করতে পারিনি।
করোনা সিচুয়েশনের কারণে ওই সময়ে আমার পরিবার থেকেও কেউ আমেরিকাতে আসতে পারেনি আমাকে সাহায্য করার জন্য। হসপিটালে ডাক্তারেরা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘বাচ্চার বাবা কোথায়’? তখন আমার কোনো জবাব ছিলো না। এরপর বাচ্চার ছবি তাকে পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তখনও শাকিবের সঙ্গে আমি কানেক্ট হতে পারিনি। এভাবে একটা নিউবর্ন বেবি নিয়ে আমার দিন কাটতে থাকে।

এরপর করোনার কারণে ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট অফ এবং বেবির পেপার্স রেডি হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি দেশেও আসতে পারছিলাম না। ফলে অনেক স্ট্রাগল করে থাকতে হচ্ছিলো আমাকে আমেরিকাতে। এরপর বাংলাদেশে আসার পরও শাকিব কোনো খোঁজ নেননি এবং আমিও চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। এসব কিছুর পরও শাকিব দাবী করেন তিনি তার সন্তান শেহজাদকে খুব ভালোবাসেন।
তাহলে তিনি কেন দুই-আড়াই বছর পর তার সন্তানের খোঁজ নিলেন? এরপরও বাংলাদেশে এসেও তার জন্য আমি কয়েকমাস অপেক্ষা করেছি, হয়তো সে তার সন্তানের দ¦ায়িত্ব নেবেন এমনটা ভেবে। কিন্তু তার মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এর বেশ কয়েকমাস পরে তার সঙ্গে আমার দেখা হয় এবং আমরা আমাদের সন্তান নিয়ে বেশ ভালো কিছু সময় পার করি, যে ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সকলে দেখেছে। তবে ঘোরাফেরা শেষে শাকিব , চিত্রনায়িকা মৌসুমী, আমাকে রিমাইন্ডারও দিয়ে দেন যে, ‘ আমি যেনো খুব বেশি খুশি না হই, কারণ তিনি সবসময় আমাদের খোঁজ নিবেন না’।
আরও দেখুনঃ

২ thoughts on “শাকিব খানই আমাকে বিয়ের প্রস্তাব করেছিলেন: শবনম বুবলী”