আলোর ঝলকানি, বিশ্বজুড়ে বিতর্ক আর লাখো মানুষের কৌতূহলী চোখের আড়ালে থাকা মিয়া খলিফার ব্যক্তিগত জীবন সবসময়ই চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। তবে ইন্টারনেটের কৃত্রিম গ্ল্যামারের বাইরে গিয়ে সুইডিশ শেফ রবার্ট স্যান্ডবার্গের সাথে গড়ে তোলা তার দুই বছরের নিভৃত সংসারের গল্পটি এবার এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ চেষ্টা ও টানাপোড়েনের পর স্বামী রবার্ট স্যান্ডবার্গের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ইতি টানলেন সাবেক এই অ্যাডাল্ট ফিল্ম স্টার ও বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।
২০১৯ সালের মার্চে গভীর প্রেম ও আস্থার সমীকরণে বাগদান সেরেছিলেন এই যুগল। একই বছরের জুনে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ের পর্ব শেষ করে তারা একসাথে নতুন জীবন শুরু করেন। তবে ২০২০ সালে একটি বড় উদযাপনের পরিকল্পনা থাকলেও বৈশ্বিক মহামারীর কারণে তা পিছিয়ে যায়। পর্দার পেছনের বাস্তব জীবনটা অবশ্য ধীরে ধীরে বদলে যেতে শুরু করে। সম্পর্কের টানাপোড়েন দূর করতে হুট করেই হাল ছেড়ে দেননি তারা; দাম্পত্য টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে নিয়মিত পেশাদার কাপল থেরাপির শরণাপন্ন হয়েছিলেন এই দম্পতি।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি খোলামেলা ও পরিপক্ক বার্তায় মিয়া স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের এই পথচলা থামানোর সিদ্ধান্তটি কোনো আকস্মিক গোলযোগ থেকে আসেনি। তাদের দুজনের জীবনদর্শনের কিছু “মৌলিক এবং অমীমাংসিত” বৈপরীত্যের কারণেই এই পরিণতি। মিয়া জানান, তারা শতভাগ আত্মবিশ্বাসের সাথেই বলতে পারেন যে বিয়েটি টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে সমঝোতা সম্ভব না হওয়ায় ভালো বন্ধু হিসেবেই তারা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যেন কোনো অনুশোচনা বা তিক্ততা ছাড়া জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করা যায়।
কোনো কাদা ছোড়াছুড়ি বা একে অপরকে দোষারোপ না করে মিয়া ও রবার্ট সুন্দর স্মৃতির কথা স্মরণ করেছেন। আলাদা হয়ে গেলেও তাদের চমৎকার পরিবার, পারস্পরিক বন্ধুবান্ধব এবং প্রিয় পোষা কুকুরের প্রতি যৌথ ভালোবাসার খাতিরে তারা সারাজীবন ইতিবাচক সম্পর্কের সুতোয় বাঁধা থাকবেন। বৈবাহিক বিচ্ছেদকে সামাজিক লজ্জার চোখে দেখার চিরাচরিত ট্যাবুর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে মিয়া বার্তা দেন—কারো সম্পর্কের বিচ্ছেদে অযাচিত সহানুভূতি বা করুণা না দেখিয়ে, একটি অকার্যকর সম্পর্ক থেকে সুস্থভাবে বেরিয়ে আসার সাহসিকতাকে ‘অভিনন্দন’ জানানোই আধুনিক সমাজের সংস্কৃতি হওয়া উচিত।
মন্তব্য