অভিনয় শেখার প্রতিষ্ঠান: সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশি অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত ওয়েব সিরিজ ‘কারাগার’। এতে অনবদ্য অভিনয় করে দর্শকের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন চঞ্চল। এই অভিনেতা শুধু দর্শককেই মুগ্ধ করেন নি, মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন ভারতীয় নির্মাতা সৃজিত মুখার্জিও।

অভিনয় শেখার প্রতিষ্ঠানে চঞ্চলের চোখ সংরক্ষণ করা উচিত – সৃজিত মুখার্জি
রবিবার (২৮ আগস্ট) সৃজিত মুখার্জি সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে এই বিষয়ে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে চঞ্চলের অভিনয়ে মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করে দারুণ এক প্রশংসা করেন।
ওই পোস্টে সৃজিত লেখেন:
‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অভিনয় শেখানোর জন্য চঞ্চল চৌধুরীর চোখ অভিনয় শেখার প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করা উচিত। ’
সঙ্গে ‘কারাগার’ ও ‘হইচইবাংলাদেশ’ হ্যাশট্যাগে লেখেন তিনি। এই পোস্টের কমেন্টে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী লেখেন:
‘এত বড় মূল্যায়ন! কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা দাদা।’
কারাগার সৈয়দ আহমেদ শাওকী পরিচালিত একটি বাংলা রোমাঞ্চকর ওয়েব ধারাবাহিক। ভারতীয় বাংলা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে ২০২২ সালের ১৮ আগস্ট থেকে এটি স্ট্রিমিং শুরু হয়। ২০২১ সালে হইচই তাদের আসন্ন নতুন পাঁচটি ওয়েব সিরিজ ঘোষণা করে, কারাগার সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের পটভূমিতে নির্মিত এই ধারাবাহিকটিতে প্রধান চরিত্রে রয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী, আফজাল হোসেন, ইন্তেখাব দিনার, বিজরী বরকতুল্লাহ, তাসনিয়া ফারিণ, এফ এস নাঈম, এ কে আজাদ সেতু। এটি তাকদীর (২০২০)-এর পর শাওকী ও চঞ্চল জুটির দ্বিতীয় ওয়েব ধারাবাহিক।
কারাগারের কাহিনী সংক্ষেপ:
আকাশনগর কারাগার বাংলাদেশের একটি কারাগার। এই কারাগারের ১৪৫ নং কক্ষ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। শিগগিরই জানা যায় ওই সেলের ভেতরে একজন বন্দী রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সেলের পুরনো তালা ভেঙে সেলে প্রবেশ করেন। এই সেলে তিনি কিভাবে এলেন জানতে চাইলে সেই বোবা বন্দী আকার ইঙ্গিতে বোঝান যে তিনি ২৫০ বছর আগে মীর জাফরকে হত্যার দায়ে বন্দী ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারাগারে স্থানান্তরিত হয়েছেন।

অভিনয়ে:
- রহস্যময় বন্দী ওরফে ডেভিড চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরী
- কারা প্রধান মোস্তাক আহমেদ চরিত্রে ইন্তেখাব দিনার
- মোস্তাকের স্ত্রী পান্না চরিত্রে বিজরী বরকতুল্লাহ
- ডিআইজি প্রিজন মহব্বত আলী চরিত্রে আফজাল হোসেন
- খায়ের চরিত্রে এ কে আজাদ সেতু
- মাহা চরিত্রে তাসনিয়া ফারিণ
- পুলিশ কর্মকর্তা ও মোস্তাকের বন্ধু আশফাকের চরিত্রে এফএস নাঈম
- ফাদাত আলফ্রেড চরিত্রে শতাব্দী ওয়াদুদ
- একজন বন্দী চরিত্রে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়
এই ওয়েব ধারাবাহিকটির আগে সৈয়দ আহমেদ শাওকি ও নেয়ামত উল্লাহ মাসুম আরেকটি ওয়েব ধারাবাহিক তকদীর-এ কাজ করেছেন। নেয়ামত পরিচালককে কারাগার বানানোর পরামর্শ দেন। এই জুটি ৩/৪ মাসের মধ্যে ওয়েব ধারাবাহিকটির পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করে। এর গল্পটি এক বছর ধরে লেখা হয়। গল্প লেখার সময় ওয়েব ধারাবাহিকটির কলাকুশলী ও অভিনেতাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া হয়। ওয়েব ধারাবাহিকের প্রধান চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরীকে নেওয়া হবে বলে আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পরিচালক। টানা দুই সপ্তাহ এর চিত্রগ্রহণ হয়।
কারাগারের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ক্রমাগত অভিনয়ের কারণে চঞ্চল অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রযোজনা দলকে এর কাহিনী লিখতে অনেক ঐতিহাসিক গবেষণা করতে হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে হইচই তাদের পঞ্চম বার্ষিকী উপলক্ষে কারাগার ওয়েব ধারাবাহিক প্রকাশের ঘোষণা দেয়। ওয়েব ধারাবাহিকটির দুটি অংশ একসাথে চিত্রধারণ করা হয়। এর বেশিরভাগ দৃশ্যের শুটিং হয়েছে পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যা বর্তমানে সংস্কার কাজের জন্য বন্ধ রয়েছে। ১৯ অগাস্ট ২০২২-এ পর্ব ১ মুক্তি পাওয়ার পর, ওয়েব ধাতাবাহিকটির পর্ব ২-এর পোস্ট-প্রোডাকশন ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়।
ওয়েব ধারাবাবিকের পর্ব ১ প্রকাশের পর, এটি এবং এর অভিনয়শিল্পীরা দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। ডেইলি স্টার-এর শিল্প ও বিনোদন ডেস্ক এটিকে একটি অনন্য কাহিনীর ওয়েব ধারাবাহিক বলে অভিহিত করেছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়া-এর পূর্ণা ব্যানার্জি প্রথম পর্বকে ৪/৫ দিয়েছেন এবং ওয়েব ধারাবাহিকের প্রধান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সাখাওয়াত কবির শায়খ ওয়েব ধারাবাহিকটি সম্পর্কে বলেছেন, “যদি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের আবদ্ধ রাখাই একটি অনুষ্ঠানকে উজ্জ্বল করার একমাত্র মাপকাঠি হয় তবে কারাগার প্রথম পর্ব নিঃসন্দেহে পাশ করেছে”। দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এএ সাদিক মাহবুব ইসলাম এর কাহিনী ও চিত্রনাট্যের প্রশংসা করেছেন।

চঞ্চল চৌধুরী:
চঞ্চল চৌধুরী (জন্ম: ১ জুন ১৯৭৪) একজন বাংলাদেশি অভিনেতা, মডেল, শিক্ষক ও গায়ক। তিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র দুই মাধ্যমেই অভিনয় করে থাকেন। তিনি তার অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, এবং সেরা অভিনেতা বিভাগে একটি মেরিল-প্রথম আলো দর্শক জরিপ পুরস্কার ও দুটি সমালোচক পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি মোট বারোটি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী চঞ্চল চৌধুরী বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজানো, অভিনয়, গান, ছবি আঁকা এসব কিছুতেই সমান পারদর্শী। তিনি কোডা, সোডা ও ইউডা কলেজের চারুকলার প্রভাষকও। চঞ্চলের অভিনয় জীবন শুরু হয় চারুকলার ছাত্র থাকাকালীন আরণ্যক নাট্যদলের সাথে যুক্ত হয়ে। পরবর্তীতে অসংখ্য নাটক ও টিভি সিরিজে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন চঞ্চল। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র রূপকথার গল্প (২০০৬)। এছাড়া তিনি মনপুরা (২০০৯), টেলিভিশন (২০১৩), আয়নাবাজি (২০১৬), ও দেবী (২০১৮) চলচ্চিত্রে তার অভিনয়নৈপুণ্য প্রদর্শন করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করেছেন।
আরও দেখুন:

১২ thoughts on “অভিনয় শেখার প্রতিষ্ঠানে চঞ্চলের চোখ সংরক্ষণ করা উচিত – সৃজিত মুখার্জি”